শিরোনাম
মুক্তিযুদ্ধে পুলিশের ভূমিকা বাঞ্ছারামপুরে জনি চেয়ারম্যান এর বিকল্প নেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে জনি চেয়ারম্যান বাঞ্ছারামপুরে ডাকাত আতঙ্ক , উদাসীন প্রশাসন টাঙ্গাইল সাহিত্য সংসদের উদ্যোগে কবি এ.এম.ইকবালকে কবি ও শহীদ বুদ্ধিজীবী নিত্যানন্দ পাল স্মৃতি পুরস্কার প্রদান দেশবাসী উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে নৌকায় ভোট দিয়েছে- ক্যাপ্টেন তাজ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-০৬ আসনে নৌকার মাঝি ক্যাপ্টেন এবি তাজুল ইসলাম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ইউএনও এবং ওসি বদলীর নির্দেশ দিয়েছে ইসি বাঞ্ছারামপুরে মাটি চুরির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা দিলো ইউপি সদস্যের স্বামী আখাউড়ায় বাজারে পেঁয়াজের কড়া ঝাঁজ!
সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০১:৪০ অপরাহ্ন

বাঞ্ছারামপুরে মুক্তিপণ না দেওয়ায় শিশুকে হত্যা করলো অপহরণকারীরা, লাশ উদ্ধার, গ্রেফতার-২

নিজস্ব প্রতিনিধি / ৭২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৩
“কবিরাজ বাবা” নামের ইমু আইডি থেকে মেসেজ দিয়ে ৪লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অপহরণের পর মুক্তিপণ না পেয়ে ফাতেমা আক্তার (৭) নামে এক শিশুকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাতে উপজেলার টেকার চর বিল থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের চাচাতো ভাই আলাউদ্দিন ও ফুফাতো ভাই লাজিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানাগেছে , উপজেলার দড়িয়াদৌলত ইউনিয়নের সুটকিকান্দি গ্রামের প্রবাস ফেরত বাছেদ মিয়ার মেয়ে ফাতেহা আক্তার (৭) গত ৩০ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাচ্ছিলেন না। এরই মধ্যে “কবিরাজ বাবা” নামের ইমু আইডি থেকে মেসেজ দিয়ে ৪লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারিরা। নিহত শিশুটির মা রুমি আক্তারের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিক বার ফোন ও মেসেজ দেন অপহরণ কারীরা। মুক্তিপণ না দিলে শিশুটিকে হত্যার হুমকি প্রদান করেন তারা। পরে গতকাল ২ অক্টোবর সোমবার সকালে এই বিষয়ে শিশুটির বাবা বাছেদ মিয়া বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। পরে নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ রহস্য উদঘাটন করতে সিভিল ড্রেসে শুটকিকান্দি গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনার একপর্যায়ে শুটকিকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে লাজিমকে মোবাইল ব্যবহার করার সময় তার গতিবিধি সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন। লাজিমের ফোনে তার ব্যবহৃত ইমু ইন্সটল দিয়ে রিকোভার করলে তার কবিরাজ বাবা নামের ইমু আইডি দেখা যায়। এসময় তাদের দুজনের ফোনে শিশুটিকে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি সংক্রান্ত চ্যাটিং (বার্তা আদান-প্রদান) পাওয়া যায় । পরে এক পর্যায়ে লাজিম পুলিশকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে। এসময় লাজিমের সাথে জড়িত আলাউদ্দিনকেও আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে গ্রেফতার কারী দুজন শিশুটিকে গলা টিপে হত্যার বিষয়টি স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। অপহরণকারী দুজন জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে শিশুটিকে গলাটিপে হত্যা করে ভিকটিমের বাড়ি থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে টেকার চক বিলের মধ্যে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে পুলিশ তাদের তথ্যমতে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
এসব তথ্য কালবেলা পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নূরে আলম। এছাড়াও তিনি বলেন তাদের দুজন কোর্টের মাধ্যমে ১৬৪দ্বারা জবানবন্দি দিয়ে জেলাকারাঘারে প্রেরণ করা হবে।
নিহতের মা রুমি আক্তার জানান, ওরা দুজন আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমার মেয়ে তো কোনো অপরাধ করে নাই। তারা কেনো এমন করলো। আমি তাদের ফাসিঁ চাই।
এ বিষয়ে নবীনগর অতিরিক্ত সার্কেল পুলিশ সুপার মোঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, দরিয়াদৌলত ইউনিয়নের শুটকিকান্দি গ্রামের বাছেদ মিয়া নামের একজন বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি জিডি দায়ের করে তার মেয়ে গত ৩০ তারিখ আনুমানিক রাত সাড়ে সাতটা থেকে মিসিং। এরই প্রেক্ষিতে আমরা আজ ঘটনাস্থলে যাই ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা আমাদের তদন্ত কার্যক্রম শুরু করি পরবর্তীতে সন্দেহের ভিত্তিতে আমরা প্রাথমিকভাবে দুজনকে আমাদের হেফাজতে আনি এবং তাদেরকে যখন ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করি জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা স্বীকার করে ঘটনার দিনই শিশুটিকে তারা গলাটিপে হত্যা করে একটা বিলের মধ্যে লাশটি রেখে দিয়েছে। তাদের দেখানো মতে আমরা ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছি। এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!