বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময়ই গর্ব করে এমন নেতাদের নিয়ে, যারা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এমনই এক উজ্জ্বল নাম ইঞ্জিনিয়ার কাজী দবির উদ্দিন। ত্যাগ, সংগ্রাম, নেতৃত্ব ও মানবিকতার এক বিরল উদাহরণ হয়ে তিনি শুধু রাজনীতিতেই নয়, সামাজিক উন্নয়ন ও পেশাগত অঙ্গনেও রেখেছেন সোনালি স্বাক্ষর।
শৈশব ও শিক্ষা জীবন
১৯৬৪ সালের ১ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দরিকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী দবির উদ্দিন। পিতা মরহুম কাজী আব্দুল শহুদ ও মাতা আছিয়া বেগম—দুজনেই ছিলেন সৎ ও সমাজসেবী মানুষ। শৈশব থেকেই পরিশ্রমী ও নেতৃত্বগুণে ভরপুর দবির উদ্দিন কুমিল্লা বোর্ড থেকে এসএসসি (১৯৭৯) ও ঢাকা বোর্ড থেকে এইচএসসি (১৯৮১) পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ অর্জন করেন। ১৯৮৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এসসি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজিতে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা
শিক্ষাজীবন থেকেই ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় দবির উদ্দিন ১৯৮০ সালে সরকারি কবি নজরুল কলেজে ছাত্রদলের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপির বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ইউনিটের ভাইস-প্রেসিডেন্ট, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাঞ্ছারামপুরে বিএনপির কর্মসূচি বাস্তবায়ন, ঢাকার আন্দোলন-সমাবেশে অংশগ্রহণ এবং মামলায় জড়িত নেতাকর্মীদের আইনি ও আর্থিক সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অবদান
রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নে রেখেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি দরিকান্দি ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি, ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (IEB)-এর ফেলো, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের আজীবন সদস্য এবং জাপানের Alumni of Overseas Training Scholarship (AOTS)-এর আজীবন সদস্য। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতি, ঢাকা এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
পেশাগত জীবনে সাফল্য
টেক্সটাইল শিল্পে তিন দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতার অধিকারী দবির উদ্দিন ৬ বছর বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট হিসেবে কাজ করেন। বর্তমানে রাহমাত গ্রুপের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর তত্ত্বাবধানে ২০টিরও বেশি স্পিনিং মিল নির্মিত হয়েছে। পাশাপাশি আহসানুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫ বছর অতিথি অধ্যাপক হিসেবে পাঠদান করেছেন।
আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা
সরকারি বৃত্তিতে জাপানে কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট প্রশিক্ষণ নেন তিনি। এছাড়া জার্মানি, ফ্রান্স, গ্রিস, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ বহু দেশে আন্তর্জাতিক সেমিনার ও মেলায় অংশ নিয়েছেন।
মানবিক কর্মকাণ্ড
দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের চিকিৎসা ও শিক্ষায় সহায়তা করা এবং মানবিক সহায়তায় গোপনে অবদান রাখা তাঁর জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
বাঞ্ছারামপুরের রাজনীতি ও সমাজে ইঞ্জিনিয়ার কাজী দবির উদ্দিনের অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর জীবনগাথা প্রমাণ করে—ত্যাগ, সততা ও নিষ্ঠা থাকলে একজন মানুষ সমাজ ও জাতির জন্য পরিবর্তনের নায়ক হতে পারেন।